প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৫, ২০২৬, ৫:১৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৪, ২০২৬, ৭:০১ পি.এম
অবৈধ বালিয়াড়ি উদ্ধারে অভিযান ঘিরে বিতর্ক তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন ডিআইজি আপেল মাহমুদের, ‘ষড়যন্ত্র করে বালিয়াড়ি দখল করা যাবে না’
রেজাউল করিম,কক্সবাজার জেলা স্টাফ রিপোর্ট:
কক্সবাজারের পর্যটন জোনে অবৈধ বালিয়াড়ি দখল উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। সাম্প্রতিক অভিযানের পর একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করলে তিনি নিজেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন,
“সম্মানিত সকলকে জানাচ্ছি—আমি নিজেই আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছি একটি উচ্চ পদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সত্যতা যাচাই করার জন্য। যেকোনো সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার মানসিকতা আমি রাখি। আবারও বলছি—ষড়যন্ত্র করে বালিয়াড়ি দখল করা যাবে না, ইনশাল্লাহ।”
অবৈধ দখল উচ্ছেদে তৎপরতা
জানা গেছে, সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধ স্থাপনা ও দখল কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি টুরিস্ট পুলিশের উদ্যোগে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অভিযোগ ও অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ে।
তবে টুরিস্ট পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সৈকতের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলমুক্ত রাখা জরুরি। বালিয়াড়ি প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করে এবং পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে যেকোনো অবৈধ দখল অপসারণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন
কক্সবাজার মানেই নীল সমুদ্র, দীর্ঘ বালুচর আর ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়। এই বিশাল পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ কাজ নয়। পর্যটন মৌসুমে লাখো দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে কক্সবাজার-এ।
পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার, টহল বৃদ্ধি, হেল্পলাইন সক্রিয় রাখা, ছিনতাই ও হয়রানি রোধ—এসব কার্যক্রমে গত কয়েক বছরে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। টুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি এখন সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আরও বেশি চোখে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদের মতে, নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় পর্যটকদের আস্থা বেড়েছে। অনেকেই পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে আসছেন, যা পর্যটন অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
সৈকতে ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন,
“আমি একজন সাধারণ পর্যটক হিসেবে বলছি—কক্সবাজারে গেলে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ মনে হয়। পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে টুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি দেখে সত্যিই ভরসা পাই। ভালো কাজের সমালোচনা হতেই পারে, কিন্তু যারা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের প্রতি সম্মান থাকাটা জরুরি।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“ভালো কাজ চোখে পড়লে প্রশংসা করতেই হয়। কক্সবাজারে নিরাপত্তা আগের চেয়ে অনেক ভালো—এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। অযথা সমালোচনা না করে বাস্তবটা দেখাই ভালো।”
অনেকে আবার মনে করেন, “কাজ করলে সমালোচনা আসবেই। কিন্তু অপপ্রচার দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যায় না। মিথ্যার গন্ধ বেশিক্ষণ টেকে না—সত্য শেষ পর্যন্ত সামনে আসবেই।”
তদন্তেই মিলবে চূড়ান্ত সত্য
ডিআইজি আপেল মাহমুদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কোনো অভিযোগকে ভয় পান না; বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক—এটাই চান। তাঁর দাবি, একটি চক্র বালিয়াড়ি দখলের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হলে অভিযোগ-প্রতিআভিযোগের অবসান ঘটবে এবং জনমনে থাকা বিভ্রান্তি দূর হবে।
কক্সবাজারের সুনাম রক্ষা, পর্যটকদের আস্থা অটুট রাখা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই প্রশাসনের পদক্ষেপ হওয়া উচিত বলে মত দিচ্ছেন সচেতন মহল।
সব মিলিয়ে অবৈধ বালিয়াড়ি উদ্ধার অভিযান ঘিরে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখন নির্ভর করছে তদন্তের ফলাফলের ওপর। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—কক্সবাজার আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে এগিয়ে যাক; আর যারা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা যেন ন্যায্য মূল্যায়ন পান।.
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃসনজু মিয়া। উপদেষ্টাঃ- মোঃসিয়াম মিয়া। নির্বাহী সম্পাদক মোঃ জসিম মিয়া, বার্তা সম্পাদক মোঃরনজু মিয়া। ঢাকা অফিস : আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগের ঠিকানা:-কিশোরগঞ্জ সদর । বার্তা কার্যালয়ঃ-ভৈরব কিশোরগঞ্জ। মোবাইল: ০১৫৬৮৩৪৬৫৯৫ ( সম্পাদক), (নির্বাহী সম্পাদক ০১৯৩৩২১১৩৯
All rights reserved © 2025