ঢাকাSunday , 30 March 2025
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদে মাংসের চাহিদা পূরণে গোস্ত সমিতি ।।

Link Copied!

Spread the love

মোঃ সাইফুল ইসলাম, ধামরাই (ঢাকা) থেকে :-

গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা মেটাতে ঢাকার ধামরাই উপজেলার পাড়া মহল্লায় গঠন করা হচ্ছে গোশত সমিতি। এই ব্যতিক্রমী গোশত সমিতি নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সেহেরির পরপরই গরু জবাই হয়েছে। চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে মাংস কাটা মাপযোগে ব্যস্ত মানুষ। এটি কোরবানির ঈদের আয়োজন না হলেও আমেজটা তার চেয়ে কম নয়।
একদিন বাদেই ঈদুল ফিতর। ঈদকে ঘিরে ‘গোস্ত সমিতি’র এই বর্ণাঢ্য আয়োজন। ধামরাইয়ের গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে এই ‘গোস্ত সমিতি’। সমিতির শুরুটা হয়েছিল বছর ছয়েক আগে। শুরুতে এটি গরিবদের সমিতি নামে পরিচিত হলেও এখন এই সমিতি সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলার চারিপাড়া সমিতির উদ্যোক্তা মো: ফরহাদ হোসেন জানান, ছয় বছর আগে নিম্ন এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত ২০ সদস্য নিয়ে গ্রামে একটি ‘গোস্ত সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। সমিতিতে এবার ৪২ সদস্য। বাজারে গরুর গোস্তের দাম গরিবের নাগালের বাইরে থাকায় শুরুতেই দরিদ্রদের নিয়ে সমিতিটি করেছিলেন তিনি। কিন্তু এখন সমাজের প্রায় সব শ্রেণির মানুষ তার এই ‘গোস্ত সমিতি’র’ সদস্য।
তিনি বলেন, গোস্ত সমিতির কার্যক্রম চলে বছরভিত্তিকভাবে। বছরের শুরু থেকে ২০০ টাকা হারে সমিতিতে সঞ্চয় করেন সদস্যরা। বছর ঘুরে ঈদের আগে সমিতিতে জমানো অর্থে গরু কিনে তা জবাই করা হয়। ঈদ উপলক্ষ্যে সমিতির সকল সদস্যের মধ্যে ওই গোস্ত সমবন্টন করা হয়। বাজারের তুলনায় কম দামে বেশি গোস্ত পাওয়ায় এই গোস্ত সমিতির প্রসার হয়েছে।
ধামরাইয়ের বিভিন্ন গ্রামের ‘গোস্ত সমিতি’র সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদস্যরা সমিতিতে সাপ্তাহিক বা মাসিক হারে নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ জমা রাখেন। গচ্ছিত ওই টাকায় কেনা হয় গরু। সাধারণত প্রতিটি গোস্ত সমিতির সদস্যসংখ্যা ৩০ থেকে ৭০ জনের মতো। ভ্যানচালক ষাটোর্ধ রেজাউল জানান, অভাবের সংসারে খেয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন। ভ্যান চালিয়ে বর্তমান বাজারে গরুর গোস্ত কেনা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। একারণেই তিনি গ্রামের মাসিক গোস্ত সমিতির সদস্য হয়েছেন।
গোশত সমিতির উদ্যোক্তা তরিকুল ইসলাম (ঠান্ডু) জানান, তিনি চার বছর ধরে গোস্ত সমিতি তত্ত্বাবধান করছেন। এবছর তার সমিতির সদস্য ৩৬। সদস্যরা মাসিক ৩০০ টাকা করে অর্থ সঞ্চয় করেছেন তার সমিতিতে। সেই টাকায় ১ টি গরু কিনে মাংস বন্টন করছেন। প্রতিকেজি মাংসের দাম পড়েছে ৬৭০ টাকা। বাজার দরের চেয়ে কম দামে বেশি পরিমাণ মাংস পেয়ে সদস্যরাও খুশি। তাদের সমিতির মতো এই গ্রামেই অন্তত ১০টি গোস্ত সমিতি রয়েছে।