
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি: মোঃ আব্দুল্লাহ আল জাবের।
বরিশালের উজিরপুরে দোকানের নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে গিয়ে এবার আপন ভাতিজার তোপের মুখে পরে দলবল নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন উজিরপুর পৌর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক গিয়াস আকন।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ভিডিও’র সূত্রধরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ইচলাদী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে লিমন হাওলাদার শুক্রবার সকালে নিজেদের দোকান ঘর নির্মাণ করতে যায়। নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে আসার কিছু সময়ে মধ্যে বিএনপি নেতা গিয়াস আকন ও তার সহযোগি সাবেক যুবদল নেতা শাহ আলম চুন্নু হত্যা মামলার আসামি সৈয়দ ইউসুফ দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রহস্যজনক কারণে দোকান নির্মাণে বাঁধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে লিমন হাওলাদারকে গালিগালাজ করে নির্মান কাজে নিয়েজিত শ্রমিকদের বের করে দিয়ে দোকানের সাটারে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
সূত্রে আরও জানা গেছে, আকস্মিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিএনপি নেতা গিয়াস আকনের আপন বড় ভাইয়ের ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা জহিরউদ্দিন বাবু। একপর্যায়ে গিয়াস আকন ও তার সহযোগিরা বাবুর তোপের মুখে ঘটনাস্থল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন। এ সময় অসহায় দোকান নির্মানকারীর লিমন হাওলাদারের পক্ষে জহির উদ্দিন বাবু প্রকাশ্যে দোকানের নির্মাণ কাজ করার জন্য বিএনপি নেতা গিয়াস আকনের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন এক পর্যায়ে গিয়াস আকন ও সৈয়দ ইউসুফ তোপের মূখে পড়েন ভাতিজা জহির উদ্দিন বাবুর।
লিমন হাওলাদার দৈনিক প্রভাত টাইমসকে বলেন, তার বাবা সালাম হাওলাদারের ক্রয়কৃত জমিতে নির্মিত দোকান ঘর মেরামত করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে বিএনপি নেতা গিয়াস আকনের বাঁধার সম্মুখীন হয়েছি। পরবর্তীতে জহিরউদ্দিন বাবুর কঠোর হস্তক্ষেপের কারণে গিয়াস ও তার সহযোগিরা দ্রত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, পৌর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক গিয়াস আকন ও তার সহযোগি সৈয়দ ইউসুফের বিরুদ্ধে কাউন্টার দখল, নিজ দলের নেতাকর্মীদের মামলায় আসামি করে অর্থ বাণিজ্যসহ নানা আভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পৌর বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক গিয়াস আকনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা দৈনিক প্রভাত টাইমসকে বলেছেন, গিয়াস আকনের অপকর্মের ফিরিস্তি ইতোমধ্যে নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরে আসার পর তার (গিয়াস) বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
Post Views: 61