ঢাকাThursday , 5 March 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কক্সবাজারে অবৈধ বালিয়াড়ি উদ্ধার করতে গিয়ে রোশানলের কবলে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডি আইজি আপেল মাহমুদ: ষড়যন্ত্রের ছায়া?

রেজাউল করিম
March 5, 2026 3:04 pm
Link Copied!

রেজাউল করিম

কক্সবাজার, ৫ মার্চ ২০২৬:
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডি আইজি) আপেল মাহমুদ বর্তমানে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। সম্প্রতি, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অবৈধ বালিয়াড়ি উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি এক ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। একদিকে, তার বিরুদ্ধে মিড়িয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রশ্ন উঠানো হচ্ছে, অন্যদিকে, কক্সবাজারের এই বালিয়াড়ি দখল নিয়ে চলছে গভীর ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, কেন এত শক্তিশালী কিছু ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং কী ধরনের ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি?

বালিয়াড়ি দখল: ব্যবসার হাতছানি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র, যেখানে প্রতি বছর লাখো পর্যটক আসেন। এখানকার বালিয়াড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা অনেক ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর কাছে অতি মূল্যবান। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, কক্সবাজারের বালিয়াড়ি দখলের ঘটনা এখন বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে। তবে, এই দখলদারির পিছনে রয়েছে বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক লাভ। বিশেষত, কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে, যা ট্যুরিজম এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

এদিকে, ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি আপেল মাহমুদ বেশ কিছুদিন ধরে বালিয়াড়ি উদ্ধার করার জন্য এক কঠোর অভিযান চালিয়ে আসছেন। তার এই উদ্যোগ অবৈধ দখলদারদের টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, তাকে ‘থামানোর’ জন্য এখন প্রশ্ন উঠেছে, কত কোটি টাকার মিশন চলছে? সরকারি পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মিডিয়া ট্রায়াল ও রাজনৈতিক চাপ

অপরদিকে, আপেল মাহমুদ বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক মিডিয়ার আক্রমণের মুখে পড়েছেন। কিছু মিডিয়া তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে, যার মধ্যে তার কর্মকাণ্ড ও অনৈতিক সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই মিডিয়া ট্রায়াল কি স্রেফ তাঁর ব্যক্তিগত চরিত্র হনন, না কি তার পেশাগত দায়িত্ব পালনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ? সরকারের নীরবতা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের স্বল্প সহায়তা যে তাকে একা ফেলে দিয়েছে, তা এখন সুস্পষ্ট।

এমন পরিস্থিতিতে, এক গোপন গোষ্ঠী ক্ষমতাসীনদের সহযোগিতা নিয়ে ধীরে ধীরে তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে নজরদারি কমাতে চাইছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার টানাপড়েন কি শুধুই ব্যক্তিগত স্বার্থের খেলা, নাকি প্রকৃতপক্ষে বৃহৎ অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে তাঁর ভূমিকা?

লাইলা কি খুকি ছিল?

কিছু বিশেষ সূত্র থেকে জানা গেছে, আপেল মাহমুদের কর্মজীবনে ‘লাইলা’ নামে এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন রয়েছে। এই সম্পর্কটি নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন উঠছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা অনুযায়ী, এই মহিলার মাধ্যমে আপেল মাহমুদকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তবে, এটা কি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত বিষয়, নাকি একটি বড় ধরণের কৌশল, যা তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পরিকল্পনা করা হয়েছে?

বালিয়াড়ি দখলের ষড়যন্ত্র:
এখন সবকিছু যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখন একটাই প্রশ্ন সামনে উঠে আসে— কক্সবাজারের বালিয়াড়ি দখল করতে এই গভীর ষড়যন্ত্র চলছে কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য প্রশাসনের উঁচু পর্যায়ে তদন্ত হওয়া উচিত। এটা শুধু আপেল মাহমুদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং সমগ্র কক্সবাজারের জনগণের স্বার্থের ব্যাপার। বালিয়াড়ি দখলের মূল উদ্দেশ্য যদি ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে মিশে থাকে, তবে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প এবং পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে দীর্ঘমেয়াদে।

কক্সবাজারের বালিয়াড়ি উদ্ধার করতে গিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডি আইজি আপেল মাহমুদ যে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, তা শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার ক্ষতি নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে সরকারের সম্মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। প্রশাসনিক তদন্ত এবং পরবর্তী ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া না হলে, এই সমস্যা আরো ঘনীভূত হবে এবং এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিপজ্জনক প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন শুধু সময়ের ব্যাপার, কক্সবাজারের এই ঘটনাটি কোথায় গড়াবে, এবং আমরা সত্যিকারের ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।