
★-মোঃমাহাবুবুর রহমান।ঝিনাইদহ(কালীগঞ্জ)থেকে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কালুখালী গ্রামের কালুখালী পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রতি বছর প্রথম রমজান থেকেই আসরের নামাজের পর শুরু হয়ে যায় ঝাড়ামোছার কাজ। গ্রামের যুবক–তরুণেরা দল বেঁধে ইফতারের আয়োজনে নেমে পড়েন। কেউ পাটি বিছান, কেউ প্লেট ও পানি দেওয়ার কাজ করেন, কেউবা খাবার পরিবেশন করেন। মসজিদে চলে ধর্মীয় আলোচনা, গ্রামের রোজাদার ও পথচারী মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে বসে যান খাবার সামনে নিয়ে। ইফতারের আগে মোনাজাতে অংশ নেন উপস্থিত সবাই। এরপর শুরু হয় ইফতার।
১৫ বছর ধরে এভাবে ইফতার করছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কালুখালী গ্রামের যুবকেরা। কালুখালী পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে পুরো রমজান মাস জুড়ে চলে এই ইফতার আয়োজন।
কালুখালী জনকল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি এম এম কলেজ যশোর,গনিত বিভাগের প্রফেসর জনাব মো: টিপু সুলতান বলেন, কালুখালী গ্রামে একটি মসজিদ ছিলো মসজিদটি ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত।যা কালুখালী গ্রামের কেন্দ্রীয় মসজিদ নামে পরিচিত । কালুখালী কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা হাফেজ মো: সেলিম রেজা বলেন ২০০৮ সালের আগে গ্রামে একসঙ্গে ইফতারের রেওয়াজ ছিল না। এতে গ্রামের সবাই ঠিকমতো ইফতার করতে পারতেন না। অনেক দরিদ্র পরিবারের সদস্য ঠিকমতো ইফতারি না পেয়ে কোনোরকমে ইফতার করতেন।
কালুখালী পূর্ব পাড়া জামে মসজিদের খতিব হাজী মো: মসলেম উদ্দিন বলেন,গ্রামের রোজাদার ও মুসাফিরদের কথা চিন্তা করে ২০১০ সালে মসজিদ প্রাঙ্গণে ইফতারের আয়োজন শুরু করেন, যা এখনো চলছে।
কালুখালী পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আড়মুখী দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক জনাব মো: মনিরুজ্জামান মিলন বলেন, রমজানের শুরুর আগে তাঁরা গ্রামের সচ্ছল ও ইফতারি দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের একটি তালিকা করেন। তালিকা অনুযায়ী রমজানের ৩০ দিনই তাঁরা ইফতারের আয়োজন করেন। ইফতারের আয়োজনের প্রয়োজনে তাঁরা থালা-প্লেট, জগ-বালতি, পাটি, চট-সব কিনে রেখেছেন। রোজার মাস শুরু হলেই তাঁদের স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজে নেমে যান। রাশেদ রায়হান বলেন ১২ থেকে ১৫ জনের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয় । প্রতিদিন বিকেল হলেই স্বেচ্ছাসেবকেরা মসজিদের মাঠে চলে আসেন। শুরু হয়ে যায় ইফতার মাহফিলের কাজ। এভাবে প্রতিবছর ইফতারের আয়োজন করা হয়। এ কার্যক্রমে প্রতিবছর ইফতারি দেওয়াই মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
কালুখালী পূর্ব পাড়া জামে মসজিদের অন্যতম সদস্য ও দৈনিক নাগরিক ভাবনা পত্রিকার ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ আবুল কালাম জানান, গ্রামের যুবকদের এই একতা ও একসঙ্গে ইফতারের আয়োজন একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁদের এ আয়োজনে অনেক পথচারী রোজাদারেরাও অংশ নিচ্ছেন।
কালুখালী মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মো:মশিয়ার রহমান বলেন ইফতার দেওয়া আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য,অনেক আগে থেকেই বাপ-চাচারা দিয়েছে আমরা সবাই এই মেলবন্ধনকে ধরে রাখার জন্য প্রতি বছর ইফতারের আয়োজন করে থাকি এটা একটা ধর্মীয় অনুভূতি।
ইফতারের আয়োজকদের পক্ষে মো:জাহাঙ্গীর আলম মাষ্টার বলেন, মানুষকে এক দিন ইফতার করানোর ইচ্ছা অনেকের থাকে। কিন্তু আয়োজন করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। যুবকদের এ আয়োজন তাঁদের ইফতার দেওয়ার কাজ সহজ করে দেয়।
বাড়িতে ইফতারির ব্যবস্থা থাকলেও মসজিদে ছুটে যান বলে জানান কালুখালী গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুল খালেক,সৈনিক সমির,বজলুর রহমান মাষ্টার,শখের আলী,মাছুদুর রহমান,শাহিন হোসেন,মুকুল হোসেন,সেলিম রেজা ভুট্টো,আহসান হাবীব,আবির হোসেন,রফিকুল ইসলাম সহ আরো অনেকেই বলেন খুবই সুন্দর আয়োজন,সব বয়সের সব শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে ইফতার করে অনেক আনন্দ পাওয়া যায়
Post Views: 60