
মোঃ আনোয়ার হোসেন ডিমলা, নীলফামারী।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুনের ঘটনায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে তাকে ৪৮ ঘণ্টার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
নিহত ব্যক্তি হলেন ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ঝুলু মামুদের ছেলে হামিদুল ইসলাম (৬০)। একই এলাকার তার ছোট ভাই আবুল হোসেন (৫৫) এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাড়ির জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত (১৯ ডিসেম্বর-২০২৫) শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে আবুল হোসেন ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামিদুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়।
হামলার একপর্যায়ে হামিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল অনুমান ৮:৩০ টার দিকে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ নিহতের স্ত্রী মোছাঃ আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ডিমলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ডিমলা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয় (মামলা নম্বর–১৭- তাং ২৩/১২/২৫ ইং)
মামলা দায়েরের পর থেকে প্রধান আসামি আবুল হোসেন আত্মগোপনে থাকেন। অবশেষে গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার পল্লবী থানাধীন এলাকা থেকে র্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পরে যথাযথ আইনী প্রকৃয়ার মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যা ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়।
নিহত হামিদুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ আনোয়ারা বেগম বলেন,“আমার স্বামী কোনো অপরাধ করেনি। শুধু জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দিন আমার স্বামীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, পরে হাসপাতালে নেওয়ার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
নিহতের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানান, জমির বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত আবুল হোসেন বারবার সংঘর্ষে জড়াতেন। শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধই প্রাণ কেড়ে নেয় হামিদুল ইসলামের।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন,“জমিসংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করলে আদালতের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।”
Post Views: 13