যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও কানসাসের মতো অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে অন্তত চারটি আসনে নিট জয় প্রয়োজন ছিল।
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেন। সাউথ ক্যারোলাইনায় শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ জয় পান। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপারও রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে সিনেট আসন নিশ্চিত করেন। ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান জন হুস্টেডকে পরাজিত করেন। কানসাসেও ডেমোক্র্যাটরা একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছে।
এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা। নির্বাচনের আগে দলটির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন ছিল, সেখানে তাঁর প্রচারণা ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারক ও উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ অনুমোদন করা। ফলে নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এসব মনোনয়নের বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
এ ছাড়া সিনেটের কমিটিগুলোর মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর তদন্ত ও নজরদারি চালানোর সুযোগও বাড়বে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের সঙ্গে নতুন করে দর-কষাকষির অবস্থানে থাকবে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা বহাল থাকায় দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ হলে আইন পাসের প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।
২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন নির্বাচিত সিনেট সদস্যদের মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা। এরপর ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা নির্বাচন করবে। চাক শুমার আবারও ওই দায়িত্ব পেতে পারেন। তবে এ বিষয়ে দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রশাসনের জবাবদিহি, বিচার বিভাগীয় নিয়োগ এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সিনেটের নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃসনজু মিয়া। উপদেষ্টাঃ- মোঃসিয়াম মিয়া। নির্বাহী সম্পাদক মোঃ জসিম মিয়া, বার্তা সম্পাদক মোঃরনজু মিয়া। ঢাকা অফিস : আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগের ঠিকানা:-কিশোরগঞ্জ সদর । বার্তা কার্যালয়ঃ-ভৈরব কিশোরগঞ্জ। মোবাইল: ০১৫৬৮৩৪৬৫৯৫ ( সম্পাদক),
All rights reserved © 2025