
মাহফুজার রহমান, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি :
চলতি মৌসুমে মাগুরার শ্রীপুরে লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। শেষ সময়ে উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা পেঁয়াজের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পেঁয়াজের ফলন ভাল হবে। এ বছর পেঁয়াজের বীজের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বর্তমান বাজার মূল্য কম থাকায় এ মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হলে কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়বে।
চলতি মৌসুমে শ্রীপুর উপজেলায়, ৭ হাজার ৮৯১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের হয়েছে। যার সিংহভাগই চাষ হয়েছে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নে। এ বছর পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৪৬ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে।
দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরই কৃষকরা পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে উত্তোলন শুরু করবে। উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে পেঁয়াজ চাষে আরো অনেকে আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন কৃষকেরা।
গত ২০২৪ সালে মাগুরা জেলা শ্রেষ্ঠ পেঁয়াজ চাষী উপজেলার ছোট উদাস গ্রামের আলহাজ্ব খান মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, এ বছর আমি ৮ একর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি।এ বছরও পেঁয়াজের বীজের দাম বেশি হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকদের খরচ হচ্ছে ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা বা তারও বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা বিঘা প্রতি পেঁয়াজের ফলন আশা করছেন ৬০ মণ থেকে ৭০ মণ। কোনো ক্ষেত্রে আরো বেশি। বাজার মূল্য ২৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা না হলে খরচের টাকাও উঠবে না।
উপজেলার সোনাতুন্দী গ্রামের পেঁয়াজ চাষী আতিক বিশ্বাস ওরফে বকুল বিশ্বাস জানান, পেঁয়াজের পচন রোগ দেখা দিচ্ছে। তাই ভাইরাস দমনে বিষ প্রয়োগ করতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। আমি প্রায় ৩ একর পেঁয়াজ চাষ করেছি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হাজার মনের অধিক পেঁয়াজ ঘরে তুলতে পারবো। কিন্তু পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আমার একটা এয়ার ফ্লো মেশিন খুব দরকার। নতুবা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সহজ হবে না। কৃষি অফিস যদি আমাকে একটি এয়ার ফ্লো মেশিন দেয় তবে আমার পক্ষে পেঁয়াজ সংরক্ষণে সহজ হতো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হুমায়ন কবির জানান, ‘পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা লাভবান হবেন।’
মাহফুজার রহমান
শ্রীপুর, মাগুরা
০১৭৫০০৬৪২০৩
০২/০৩/২০২৬
Post Views: 69