ঢাকাFriday , 6 November 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. বিনোদন
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টেস্ট ক্রিকেটে বিরল কীর্তি, নতুন উচ্চতায় হাসান মাহমুদ

Link Copied!

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসে পাঁচটি উইকেট শিকার করে সাবেক পেসার শাহাদাত হোসেনকে ছাড়িয়ে গেছেন হাসান। এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন এই ডানহাতি পেসার। তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ছিল নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করা। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই বল হাতে আলো ছড়ান হাসান মাহমুদ। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের কয়েকজনকে সাজঘরে ফিরতে হয়। এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়েই ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের জন্য নতুন একটি অর্জন এনে দেন তিনি।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদ মোট ২২ ওভার বোলিং করেন। এর মধ্যে একটি মেডেন ওভার ছিল এবং ৮৬ রান খরচায় তুলে নেন পাঁচটি উইকেট। তাঁর বোলিং গড় ছিল ৩.৯১। একই ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ১৯ ওভার বল করে ৮৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ২৫.৩ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে পান একটি উইকেট। তাই হাসানের পাঁচ উইকেট শিকার বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি।

এই পাঁচ উইকেট শিকারের আগে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ছিল শাহাদাত হোসেনের দখলে। সাবেক এই পেসার নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে চারবার এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছিলেন। এবার পঞ্চমবারের মতো এই কীর্তি গড়ে তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন হাসান মাহমুদ। ফলে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে পাঁচ উইকেট নেওয়ার সংখ্যায় এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছেন তিনি। একজন পেসারের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সহজ নয়। তাই এই অর্জন হাসানের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

হাসান মাহমুদের এই রেকর্ড গড়ার পেছনে তাঁর বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে একই লাইন ও লেংথ বজায় রাখা, প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করা এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে উইকেট তুলে নেওয়া একজন পেসারের বড় চ্যালেঞ্জ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ইনিংসে সেই দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করেছেন তিনি। ২২ ওভারের বোলিং স্পেলে পাঁচটি উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে স্বস্তিতে খেলতে দেননি। তাঁর এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগে কার্যকর ভূমিকার আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগ তৈরি করলেন এই তরুণ পেসার।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে পেস বোলিং নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই বিভাগে কয়েকজন বোলার নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় হাসান মাহমুদের এই অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শাহাদাত হোসেনের মতো অভিজ্ঞ সাবেক পেসারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য। তবে এই রেকর্ড কেবল ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে। টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। ভবিষ্যতেও নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আরও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ থাকবে তাঁর সামনে।

সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হাসান মাহমুদের পাঁচ উইকেট শিকার বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে স্মরণীয় একটি ঘটনা হয়ে থাকল। শাহাদাত হোসেনের চারবারের রেকর্ড পেছনে ফেলে পাঁচবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৮৬ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পারফরম্যান্স তাঁকে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে নতুন রেকর্ডের মালিক করেছে। সিলেটের মাঠে এই অর্জনের মধ্য দিয়ে নিজের নাম যুক্ত করেছেন দেশের টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে হাসান মাহমুদ নিজের রেকর্ডকে কোথায় নিয়ে যেতে পারেন।