ঢাকাSaturday , 7 November 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. বিনোদন
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নওগাঁয় যমজ নবজাতকের একজনের খোঁজ নেই, বলাকা ক্লিনিকের ওয়ার্ড বয় আটক

Link Copied!

নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনের খোঁজ না পাওয়ার ঘটনায় জিহাদ হোসেন নামে এক ওয়ার্ড বয়কে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ তাঁকে আটক করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর নবজাতকের সন্ধান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

আটক জিহাদ হোসেন আত্রাই উপজেলার মনিয়ারি ইউনিয়নের মুসকিপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে। তিনি বলাকা ক্লিনিকে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের মধ্যে একটি কন্যাশিশুকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে অপর নবজাতকের কোনো সন্ধান না পাওয়ার অভিযোগ করেন বাবা শান্ত ইসলাম। এ ঘটনায় তিনি নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্ত ইসলামের স্ত্রী শান্তনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই তাঁর গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ থাকার তথ্য উল্লেখ ছিল। প্রতিবেদনে দুটি ভ্রূণের হৃদস্পন্দন ও সম্ভাব্য ওজনও আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়।

নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলামের দাবি, চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর স্ত্রীকে বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি কন্যাশিশু হস্তান্তর করা হলেও অপর নবজাতকের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েও সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নবজাতকের মা শান্তনা আক্তারও এ ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, অস্ত্রোপচারের আগে তাঁকে যমজ সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সিজারের পর একটি শিশুকে দেখানো হলে অপর শিশুর বিষয়ে জানতে চান তিনি। এ সময় তাঁর পেটের অস্ত্রোপচারের ক্ষত সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভিডিও ধারণ এবং কথা না মানলে ওই অবস্থায় ফেলে রাখার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এই প্রসূতি।

এদিকে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিবারকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি।

অন্যদিকে, বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, রোগী চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন এবং তিনিই অস্ত্রোপচার করেছেন। সন্তান একটি হয়েছে নাকি দুটি হয়েছে, সে বিষয়ে ওই চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিন্টু রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় মামলা রুজুর পর একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যমজ নবজাতকের একজনের অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া এই ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ নবজাতককে দ্রুত খুঁজে বের করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করতে হবে। এখন পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অস্ত্রোপচারের সময়কার পরিস্থিতি, ক্লিনিকের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং নবজাতকের অবস্থান।