যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর ৫টায় পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভার্মন্টের কয়েকটি কেন্দ্রে প্রথম ভোট নেওয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এ নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভার্মন্টের পর স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট, কেনটাকি ও মেইনসহ পূর্ব উপকূলের কয়েকটি রাজ্যে ভোটকেন্দ্র খুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সময় অনুযায়ী ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ চলছে।
নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যবস্থাও ছিল। নির্বাচনের আগেই বিপুলসংখ্যক ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ফলে ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিক দিন শুরুর আগেই অনেক ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে ভোট হচ্ছে। উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচিত হবেন। এসব নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। তাই এ ভোটকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম দুই বছরের কার্যক্রমের মূল্যায়ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম, অভিবাসননীতি এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবারের নির্বাচনে ভোটারদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী দুই বছরের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অবস্থান কতটা শক্তিশালী থাকবে। কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন, বাজেট অনুমোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট গণনা শুরু হবে। তবে সব অঙ্গরাজ্যের ফল একই সময়ে পাওয়া যাবে না। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটের ব্যবধান কম হলে এবং ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
সূত্র: বিবিসি।

