ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাঁর মতে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংকে বিদায় জানিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বক্তব্য দেন।
শেখ হাসিনার পাসপোর্টের প্রসঙ্গ উঠলে বিষয়টিকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন না যে, পাসপোর্ট দিয়ে আনতে হবে।’ এ সময় শেখ হাসিনাকে ‘পলাতক সন্ত্রাসী’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনার হস্তান্তর চায় সরকার। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করার প্রয়োজন নেই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ এর আগে ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরত চাওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা এখনো জানানো হয়নি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং তাঁকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগের বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবারও স্পষ্ট করেছেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে দেশে ফেরানো নয়; বরং বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হস্তান্তর।

