ঢাকাSunday , 1 November 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. বিনোদন
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন শুরু, চলবে ৮ জোনে ৮ রঙের গাড়ি

Link Copied!

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী সোমবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে বর্তমানে যারা ই-রিকশা চালাচ্ছেন, তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, একসঙ্গে সব যানবাহনের নিবন্ধন দেওয়া হবে না; পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে ই-রিকশাগুলোকে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে চলাচলকারী ই-রিকশা বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আপাতত দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় নতুন বিধিমালা কার্যকর হবে। পৌরসভা এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার আইন সংশোধন করতে হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরের জন্যও বিধিমালা জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় যারা অটোরিকশা বা ই-রিকশা চালাচ্ছেন, তাদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার খবরে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিধিমালা প্রকাশের পর এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে কেউ যাতে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়া সময় নিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় ই-রিকশা চালকদের প্রচলিত চলাচলের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বুয়েট অনুমোদিত নকশাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বর্তমানে যেসব ই-রিকশা চলাচল করছে, সেগুলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হলে নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফি ই-রিকশার মালিককে পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ শুধু রাস্তায় চলাচল করলেই নিবন্ধন পাওয়া যাবে না; যানবাহনের নকশাও নির্ধারিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

ঢাকা মহানগরে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে শহরকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। ফলে আটটি জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা আট ধরনের রঙে চিহ্নিত থাকবে। এক জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। এতে নির্দিষ্ট এলাকায় কতগুলো ই-রিকশা চলবে, তা নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চালকদের ক্ষেত্রে আপাতত ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। প্রাথমিক পর্যায়ে চালকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আইডি কার্ড দেওয়া হবে। নিবন্ধন কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে নেওয়ার পর ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, একসঙ্গে সব চালকের লাইসেন্সের ব্যবস্থা করতে গেলে প্রশাসনিকভাবে তা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

ই-রিকশার চার্জিং ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের জন্য নিবন্ধন নিতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এ নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ভাড়া নির্ধারণের বিষয়েও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ই-রিকশার মালিক, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করবে। ভাড়া নির্ধারণের সময় মালিকদের স্বার্থের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

ই-রিকশার মালিকানার সীমা নিয়েও কথা বলেন মীর শাহে আলম। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, একজন ব্যক্তি বৈধভাবে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। কারও মালিকানায় এর বেশি ই-রিকশা থাকলে অতিরিক্ত যানবাহনের নিবন্ধন অন্য ব্যক্তিদের নামে নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের সাতশ ই-রিকশা থাকার বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। তাই চালক ও মালিকদের আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে নিবন্ধন, জোনভিত্তিক চলাচল, চালকের পরিচয়, চার্জিং পয়েন্ট এবং ভাড়া নির্ধারণ—সবকিছু পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।