
✍️ রেজাউল করিম
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর পালংখালী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে থাইংখালী দাখিল মাদ্রাসা হলরুমে আয়োজিত এ মাহফিলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও বাছাইকৃত কর্মী দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন পালংখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল আলা রোমান এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ইউনিয়ন সেক্রেটারি আব্দুর রহমান। শুরুতেই রমজানের ফজিলত, সংযম, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা শাখা-এর সম্মানিত আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহম্মদ আনোয়ারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রমজান কেবলমাত্র পানাহার থেকে বিরত থাকার মাস নয়; এটি আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং নৈতিকতা চর্চার প্রশিক্ষণকাল। রমজানের শিক্ষাকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব।
তিনি ইসলামি আন্দোলনের কৌশল ও লক্ষ্য প্রসঙ্গে বলেন, কোনো আদর্শিক আন্দোলন সফল করতে হলে সংগঠিত শক্তি, সুদৃঢ় আদর্শিক ভিত্তি, সঠিক পরিকল্পনা ও ত্যাগের মানসিকতা অপরিহার্য। জয়-পরাজয় সাময়িক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আদর্শের পথে অবিচল থাকাই প্রকৃত সফলতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।” তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, রমজানের আত্মশুদ্ধির শিক্ষা ধারণ করে নিজেদের চরিত্র, আচরণ ও দায়িত্ববোধের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল হক, কক্সবাজার জেলা শ্রমিক কল্যাণ বিভাগের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও সাবেক ছাত্রনেতা জনাব মুহাম্মদ শাহাজান, ফারিরবিল মাদ্রাসার সাবেক সুপার জমির মাহমুদ, ইউনিয়ন এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আবুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে সাংগঠনিক ঐক্য, শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, রমজানের শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগাতে হবে। সংগঠনের প্রত্যেক কর্মীকে আদর্শিকভাবে পরিশুদ্ধ ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অন্যায় ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সচেতন ও আদর্শিক ভূমিকা পালন করা সময়ের দাবি। রমজান সেই চেতনা জাগ্রত করার সর্বোত্তম সময়। তাই ব্যক্তি ও সংগঠন—উভয় পর্যায়ে আত্মসমালোচনা ও আত্মউন্নয়নের মাধ্যমে সামনের পথচলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
মাহফিল শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। ইফতার ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
Post Views: 9