ঢাকাMonday , 2 November 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. বিনোদন
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন, ট্রাম্পের ক্ষমতার পরীক্ষা

Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদের মাঝপথে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচন। আগামী ৩ নভেম্বরের এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে, কংগ্রেসের দুই কক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটে রিপাবলিকান পার্টি তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা আইনসভায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। ফলে নির্বাচনটি শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা বদলের বিষয় নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি দুই বছরের শাসন পরিচালনার সক্ষমতারও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর এবং সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর কংগ্রেসের আসনগুলোতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেটিই মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে ভোট হয় না; বরং পরবর্তী দুই বছর আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব কারা করবেন, তা নির্ধারণ করেন ভোটাররা।

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে অনেক সময় ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থানের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়। কারণ, এ নির্বাচনে ভোটাররা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের দুই বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁর দলের প্রার্থীদের পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দিতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নাম কংগ্রেস। এটি দুই কক্ষবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ৪৩৫টি ভোটাধিকারসম্পন্ন আসন রয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে এসব আসন বণ্টন করা হয়। অন্যদিকে, সিনেটে ১০০টি আসন রয়েছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দুই কক্ষেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ কোনো ফেডারেল বিল আইনে পরিণত করতে সাধারণত হাউস ও সিনেট—দুই কক্ষেই পাস হতে হয়। এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। হাউসের হাতে সরকারি ব্যয় ও রাজস্বসংক্রান্ত বিল উত্থাপনের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টসহ ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ আনার ক্ষমতাও এ কক্ষের।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল পদে মনোনয়ন অনুমোদনের ক্ষমতা সিনেটের হাতে। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন এবং অভিশংসনের বিচার পরিচালনার ক্ষেত্রেও সিনেটের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। ফলে কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে।

নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির। হাউসে দলটির প্রতিনিধি ২১৮ জন। ডেমোক্র্যাটদের ২১৪ জন, একজন স্বতন্ত্র প্রতিনিধি রয়েছেন এবং দুটি আসন শূন্য। অন্যদিকে, সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের ৪৫ জন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করেন এমন দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর রয়েছেন।

এবার সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নিয়মিত নির্বাচনে ৩৩টি আসন রয়েছে। পাশাপাশি ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে দুটি বিশেষ নির্বাচন হবে। নির্বাচনের জন্য থাকা ৩৫টি আসনের মধ্যে বর্তমানে ২২টি রিপাবলিকান এবং ১৩টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার হিসাবেও রয়েছে বিশেষ সমীকরণ। সাধারণভাবে ১০০ সদস্যের সিনেটে ৫১টি আসন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন। তবে কোনো পক্ষের আসনসংখ্যা ৫০-৫০ হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের টাই-ব্রেকিং ভোটে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন। ফলে রিপাবলিকানদের জন্য ৫০টি আসনও কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে। তবে নির্বাচনের ফলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র সিনেটরদের অবস্থান ও আসনসংক্রান্ত কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনও এ হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

এবারের নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর একটি ইরান যুদ্ধ। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ বেড়েছে।

রয়টার্স ও ইপসোসের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৩৬ শতাংশ। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার তথ্য উঠে আসে জরিপে। একই জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে জরিপের ফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না।

ইরান যুদ্ধের ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করতে পারেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা যুদ্ধ পরিচালনা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। ফলে পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক চাপ—দুই বিষয়ই নির্বাচনি প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সরাসরি নির্ধারিত হবে না। তবে সামরিক ব্যয় অনুমোদন, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তদন্ত ও শুনানির ক্ষেত্রে আইনসভার ভূমিকা বাড়তে বা কমতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, শুনানি এবং ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ তৈরির সুযোগ পাবেন। তবে কোনো প্রস্তাব আইনে পরিণত করতে সাধারণত দুই কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে তা অতিক্রম করতে দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে।

রয়টার্সের ১৯ অক্টোবরের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবেন। তবে সিনেটে রিপাবলিকানদের অবস্থান শক্ত থাকলে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় নীতিগত পরিবর্তন আনা কঠিন হবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

সব মিলিয়ে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা। কংগ্রেসের দুই কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকলে তাঁর প্রশাসন তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। আর ডেমোক্র্যাটরা যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে আগামী দুই বছরে প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, ব্যয় অনুমোদন ও নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক বাধা বাড়তে পারে। ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থন—সব মিলিয়ে ভোটারদের রায় যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স